বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর 1, 2022
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর 1, 2022

HomeSportsক্রিকেট জগৎ থেকে ঝুলন গোস্বামীর অবসরের আবহে ফেসবুকে সচিন টেন্ডুলকারের পুরোনো ছবি...

ক্রিকেট জগৎ থেকে ঝুলন গোস্বামীর অবসরের আবহে ফেসবুকে সচিন টেন্ডুলকারের পুরোনো ছবি বিভ্রান্তিকর দাবি সমেত ছড়ালো 

ফেসবুকে ক্রিকেট জগৎ থেকে ঝুলন গোস্বামীর অবসরের আবহে সচিন টেন্ডুলকারের একটি ছবির সাথে ঝুলনের ছবি পোস্ট করে বলা হয়েছে – ‘একজন বাঙালী শচীনের মতো টিমমেটদের কাঁধে চড়ে সমগ্র বিশ্বের সামনে ক্রিকেট কে বিদায় জানাচ্ছে, এটা সমস্ত বাঙালির কাছে গর্বের 

অবসর জীবন ভালো কাটুক ঝুলন দি’

ঝুলন গোস্বামীর ছবিতে দেখা যাচ্ছে ওনাকে কাঁধে করে দাঁড়িয়ে আছেন ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা। অন্যদিকে একই ভাবে সচিনকে দেখা যাচ্ছে বিরাট কোহলির কাঁধে, পাশে দাঁড়ানো হরভজন, সুরেশ রায়না, ইউসুফ পাঠান ও আরো অনেকে। এই ছবিতে সচিনের হাতে ভারতের জাতীয় পতাকাও দেখা যাচ্ছে। ছবি দুটিকে এক সাথে দেওয়ার কারণ রূপে দাবি করা হয়েছে যেমন সচিন টেন্ডুলকার তার সহ খেলোয়াড়দের কাঁধে চড়ে বিশ্ব ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছে ঠিক তেমনি, বাঙালি মহিলা ক্রিকেটার ঝুলন গোস্বামীকেও কাঁধে চড়িয়েছে মহিলা দলের খেলোয়াড়রা তার অবসরের দিনে।  

ক্রিকেট জগৎ থেকে ঝুলন গোস্বামীর অবসরের আবহে image 1
Courtesy: Facebook/ bongcricstatus
ক্রিকেট জগৎ থেকে ঝুলন গোস্বামীর অবসরের আবহে image 2
Courtesy: Facebook/ ganermaster

গতকাল বিশ্ব  মহিলা ক্রিকেট জগৎ থেকে অবসর নিয়েছেন বাংলার চাকদহের মেয়ে ঝুলন গোস্বামী। ওনার দীর্ঘ ২০ বছরের ক্রিকেট জীবনকে বিদায় জানিয়ে আবেগঘন টুইট করছেন ঝুলন। ভারতের মহিলা ক্রিকেট দলের হয়ে খেলে তিনি যে খেতাব অর্জন করেছেন এবং নিজের অভিজ্ঞতা, দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে গেছেন মহিলা ক্রিকেট দলকে তার জন্য অনেকেও ওনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। 

Fact check / Verification 

ক্রিকেট জগৎ থেকে ঝুলন গোস্বামীর অবসরের আবহে সচিন টেন্ডুলকারের ভাইরাল ছবি যাকে ওনার অবসরের বলে দাবি করা হয়েছে তা আসলে ২০১১ সালের বিশ্বকাপের সময়ের। সচিনের ছবিটিকে রিভার্স ইমেজ করার পর আমরা IndiaToday এর ২রা এপ্রিল ২০২২ সালের একটি রিপোর্ট পাই। এখানে বিরাট কোহলি বলেছেন কেন তিনি ২০১১ সালের বিশ্বকাপের সময় সচিন টেন্ডুলকারকে কাঁধে বসিয়েছিলেন। 

ক্রিকেট জগৎ থেকে ঝুলন গোস্বামীর অবসরের আবহে image 3

IndiaTodayTimes Of India র ২৯শে জুলাই ২০২০ সালের রিপোর্টে কোহলির নিজের অনুভূতি ভাগ করে নিয়েছেন। কোহলি বলেন দীর্ঘ ২১ বছর ধরে সচিন টেন্ডুলকার ভারতীয় ক্রিকেট যে ঐশ্বর্যে ভরিয়ে তুলেছেন, ভারতীয় ক্রিকেটকে ঘিরে দেশবাসীর সমস্ত আশা, ভরসাকে তিনি যে ভাবে নিজের কাঁধে করে বয়ে এসেছেন তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সচিনকে ২০১১ সালের বিশ্বকাপ খেলার মাঠে নিজেরদের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন বিরাটরা।  

ক্রিকেট জগৎ থেকে ঝুলন গোস্বামীর অবসরের আবহে ফেসবুকে সচিন টেন্ডুলকারের পুরোনো ছবি বিভ্রান্তিকর দাবি সমেত ছড়ালো 

মিডিয়া রিপোর্ট ছাড়াও আমরা গুগলে কীওয়ার্ড দ্বারা খোঁজার পর India TV ২০১১ সালের ইউটুউব ভিডিও পাই যেখানে আমরা দেখি বিরাট কোহলি, হরভজন সমেত আরো অনেক ভারতীয় ক্রিকেট খেলোয়াড়দের কাঁধে মাঠে উল্লাস করেছেন সচিন।  

মিডিয়া রিপোর্ট ছাড়াও আমরা Getty Image এর লিংক পাই যেখানে আমরা ২০১১ সালে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ জেতার পর ভারতীয় ক্রিকেট দলের আনন্দ, উচ্ছাসের ছবি রয়েছে। 

অন্যদিকে NDTV Sports ১৬ই নভেম্বর ২০২০ সালের এলটি রিপোর্টে ২০১৩ সালে সচিনের ক্রিকেট জীবনের অবসর ঘোষণার স্মৃতিচারণ করা হয়েছে। এখানে ICC টুইট ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে সচিন টেন্ডুলকারের একটি ম্যুরাল এর ছবি এবং সাথে টুইটে লেখা রয়েছে ‘ আমার ২৪ বছরের জীবন এই ২২গজে,বিশ্বাস করতেই অবাক লাগছে এই অধ্যায় এবার শেষ হলো’ . সচিনের এই বক্তব্যের সাথে টুইটে আরো বলা হয়েছে ২০১৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচে নিজের অবসর ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেন সচিন।  

অর্থাৎ ঝুলন গোস্বামীর অবসরের আবহে সচিন টেন্ডুলকারের যে ছবিটি পোস্ট করে দাবি করা হয়েছে ছবিটি সচিনের অবসরের সময়ে, দাবিটি ভুল। সচিনের ছবিটি ওনার শেষ বিশ্বকাপের ছবি যা ২০১১ সালে তোলা হয়েছিল।  

Conclusion 

আমাদের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে ক্রিকেট জগৎ থেকে ঝুলন গোস্বামীর অবসরের আবহে ফেসবুকে সচিন টেন্ডুলকারের ২০১১ সালে বিশ্বকাপের ছবি দিয়ে দুই ক্রিকেট খেলোয়াড়ের অবসরের তুলনা করা হয়েছে। যদিও ২০১৩ সালে টেস্ট ম্যাচ খেলার পর সচিন নিজের অবসর ঘোষণা করেন।  

Result: Partly False


সন্দেহজনক কোনো খবর ও তথ্য সম্পর্কে আপনার প্রতিক্রিয়া জানাতে অথবা সত্যতা জানতে আমাদের লিখে পাঠান [email protected] অথবা whatsapp করুন- 9999499044 এই নম্বরে। এছাড়াও আমাদের সাথে Contact Us -র মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন ও ফর্ম ভরতে পারেন।

Paromita Das
Paromita Das
With a penchant for reading, writing and asking questions, Paromita joined the fight to combat and spread awareness about fake news. Fact-checking is about research and asking questions, and that is what she loves to do.
Paromita Das
Paromita Das
With a penchant for reading, writing and asking questions, Paromita joined the fight to combat and spread awareness about fake news. Fact-checking is about research and asking questions, and that is what she loves to do.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular