শনিবার, ডিসেম্বর 10, 2022
শনিবার, ডিসেম্বর 10, 2022

HomeFact CheckPoliticsউঃ প্রদেশে মিড-ডে মিলে প্রতিদিন পড়ুয়াদের পনির ও আপেল দেওয়া হয়? পশ্চিমবঙ্গের...

উঃ প্রদেশে মিড-ডে মিলে প্রতিদিন পড়ুয়াদের পনির ও আপেল দেওয়া হয়? পশ্চিমবঙ্গের ও উত্তর প্রদেশের মিড-ডে মিল নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়ালো বিভ্রান্তি 

সম্প্রতি আমাদের হোয়াট্সঅ্যাপে (9999499044) একটি মেসেজ এসেছে যেখানে দাবি করা হয়েছে উঃ প্রদেশে মিড-ডে মিলে প্রতিদিন পড়ুয়াদের পনির ও আপেল দেওয়া হয় আবার অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মিড-ডে মিলের খাবার যেমন সয়াবিন, মাছ, দিন প্রায়ই চুরি হয়ে যায়।  

উঃ প্রদেশে মিড-ডে মিলে প্রতিদিন পড়ুয়াদের পনির ও আপেল দেওয়া হয় image 1

একই ছবি আমরা ফেসবুকেও পেয়েছি। ভাইরাল ছবিতে দেখা যাচ্ছে উত্তরপ্রদেশের মলকপুরার  উচ্চপ্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রের হাতে ধরা রয়েছে একটি খাবারের থালা যেখানে রয়েছে পনিরের তরকারি, লুচি, স্যালাড, আপেল ও আইসক্রিম। এই ছবিটির সাথে ওপর ছবিতে দেখা যাচ্ছে নীল রঙের স্কুলের পোশাক পরা বাচ্চাদের মিড-ডে মিল খাওয়ার ছবি যাকে পশ্চিমবঙ্গের বলা হচ্ছে। 

উঃ প্রদেশে মিড-ডে মিলে প্রতিদিন পড়ুয়াদের পনির ও আপেল দেওয়া হয় image 2
Courtesy: Facebook/ thethoughtfulbengali

কেন্দ্রীয় সরকারের তৎপরতায় ১৯৯৫ সালে দেশের সকল সরকারি  স্কুলের পড়ুয়াদের খাবারের ব্যবস্থা করার হয়। এর ফলে সরকারি স্কুলের বাচ্চারা বিনা পয়সায় পুষ্টিকর খাবার পাবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে।কিন্তু এমনও কিছু খবর সামনে এসেছে যেখানে মিড-ডে মিলের খাবার নিয়ে দুর্নীতি প্রকাশ পেয়েছে। অন্যদিকে কয়েক বছর আগে উঃ প্রদেশের মির্জাপুরের একটি স্কুলের মিড-ডে মিলের একটি দুঃখজনক ঘটনা সামনে আসে। এক সাংবাদিক দ্বারা একটি ভিডিও সামনে আসে যেখানে দেখা গিয়েছে মির্জাপুরের ওই স্কুলে বাচ্চাদের রুটি ও নুন খেতে দেওয়া হয়েছে মিড-ডে মিলে। যদিও এরপর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে এবং উক্ত স্কুলের দুজন শিক্ষককে বরখাস্ত করে।  

Fact check / Verification 

উঃ প্রদেশে মিড-ডে মিলে প্রতিদিন পড়ুয়াদের পনির ও আপেল দেওয়া হয় এই দাবিটির সত্যতা যাচাই করার সময় আমরা উঃ প্র সরকারের মিড-ডে মিলের ওয়েবসাইটে যাই। এখানে সোম থেকে শনিবারের মিড-ডে মিলের খাবারের তালিকা রয়েছে। এখানে যে যে খাবারের উল্লেখ আছে তার সাথে ভাইরাল ছবির কোনো মিল নেই। এমনি ছবিতে  আপেল ও আইসক্রিম দেখা যাচ্ছে কিন্তু যোগী সরকাররে মিড-ডে মিলের খাদ্য তালিকায় তার কোনো নাম নেই। 

উঃ প্রদেশে মিড-ডে মিলে প্রতিদিন পড়ুয়াদের পনির ও আপেল দেওয়া হয় image 3

এরপর কীওয়ার্ড আরো খোঁজার পর আমরা একটি টুইট পাই যেখান এই খাবারের ছবিটি দিয়ে বলা হয়েছে ‘উত্তরপ্রদেশে গরিব স্কুলের বাচ্চাদের এই মিড্-ডে মিলে দেওয়া হয়, যা দেখা আমার মতো ভোজনরসিকের মুখ জল চলে এসেছে’ .এই টুইটটি করেছেন সুদর্শন নিউজের সাগর কুমার। ওনার এই টুইটিকে নিয়ে শেখর প্যাটেল লিখেছেন এই খাবার MDM উঃ প্র সরকারের তরফ থেকে নয়, সাংবাদিক ও মলকপুরার গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অমিত বাবু ব্যবস্থা করেছেন। 

আমাদের অনুসন্ধানে আমরা IndiaToday ২০১৯ সালের একটি রিপোর্ট পাই যেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে বেঁধে দেওয়া সরকারি স্কুলে মিড-ডে মিলের খাদ্য তালিকা পাই। এখানে আমরা দেখি বঙ্গের সরকারকারী বিদ্যালয়গুলোতে ভাত, দল, সবজি, সয়াবিন, ডিমের তরকারি, মাছের ঝোল ইত্যাদি পুষ্টিকর খাবার ধার্য করা হয়েছে। 

উঃ প্রদেশে মিড-ডে মিলে প্রতিদিন পড়ুয়াদের পনির ও আপেল দেওয়া হয় দাবিটি অর্ধ-সত্য 

অন্যদিকে উত্তর প্রদেশের মিড-ডে মিলের ছবির সাথে অপর একটি ছবি দেওয়া হয়েছে জেক পশ্চিমবঙ্গের বলা হয়েছে। ছবিটির রিভার্স ইমেজ করার পর আমরা NDTVর ১০ই জুন ২০২২ সালের একটি রিপোর্ট পাই। এখানে আমরা দেখি একই ছবি রয়েছে এবং বলা হয়েছে ছবিটি Shutterstock থেকে নেওয়া হয়েছে।  

এরপর গুগলে কিছু কীওয়ার্ড দ্বারা খোঁজার পর আমরা আসল ছবিটি পাই। ছবিটি তুলেছেন মোহম্মদ শাহনওয়াজ। ২০২১ সালের ২২শে মার্চে রাঁচি ঝারখবের একটি সরকারি স্কুলের বাচ্চাদের মিড-ডে মিল খাবার ছবি পশ্চিমবঙ্গের নামে ছড়িয়েছে।  

Conclusion 

আমাদের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে উঃ প্রদেশে মিড-ডে মিলে প্রতিদিন পড়ুয়াদের পনির ও আপেল দেওয়া হয় দাবিটি অর্ধ-সত্য কারণ যোগী সরকারের মিড-ডে মিলের আওতায় এই ধরণের খাওয়ার নেই। এছাড়াও নীল পোশাকের যে স্কুল পড়ুয়াদের ছবি ভাইরাল হয়েছে তা ঝাড়খণ্ডের। 

Result: Partly False

Our sources

Shutterstock image
NDTV report of 2022
UP Mid-Day Meal Website
Tweet by Shikhar Patel on September 3, 2022
Facebook Post by Gram Pradhan Amit on Sptember 2, 2022


সন্দেহজনক কোনো খবর ও তথ্য সম্পর্কে আপনার প্রতিক্রিয়া জানাতে অথবা সত্যতা জানতে আমাদের লিখে পাঠান [email protected] অথবা whatsapp করুন- 9999499044 এই নম্বরে। এছাড়াও আমাদের সাথে Contact Us -র মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন ও ফর্ম ভরতে পারেন।

Paromita Das
Paromita Das
With a penchant for reading, writing and asking questions, Paromita joined the fight to combat and spread awareness about fake news. Fact-checking is about research and asking questions, and that is what she loves to do.
Paromita Das
Paromita Das
With a penchant for reading, writing and asking questions, Paromita joined the fight to combat and spread awareness about fake news. Fact-checking is about research and asking questions, and that is what she loves to do.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular