মঙ্গলবার, জুলাই 16, 2024
মঙ্গলবার, জুলাই 16, 2024

HomeFact Check১৮১৮ সালে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সনাতনী মুদ্রার প্রচলন করেছিল? 

১৮১৮ সালে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সনাতনী মুদ্রার প্রচলন করেছিল? 

Authors

With a penchant for reading, writing and asking questions, Paromita joined the fight to combat and spread awareness about fake news. Fact-checking is about research and asking questions, and that is what she loves to do.

সম্প্রতি ফেসবুকে একটি মুদ্রার ছবি ভাইরাল হয়েছে যেখানে রাম, লক্ষণ ও সীতার ছবি রয়েছে এবং একে ঘিরে দাবি করা হয়েছে ১৮১৮ সালে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সনাতনী মুদ্রা চালু করেছিল। ১৮১৮ সালের এই কয়েনের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে ‘ তৎকালীন আমলের মুদ্রা, সনাতন সত্য, সনাতন আদি, সনাতন শ্রেষ্ঠ ধর্ম ‘.

১৮১৮ সালে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সনাতনী মুদ্রা image 1
Courtesy: facebook /BongBonding
১৮১৮ সালে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সনাতনী মুদ্রা image 2
Courtesy: Facebook
১৮১৮ সালে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সনাতনী মুদ্রা image 3
Courtesy: Facebook / SrimadbhagavataGita11

ফেসবুক ছাড়াও এই মুদ্রার ছবি টুইটারেও ছড়িয়েছে। News18 হিন্দি চ্যানেলের বিশিষ্ট সম্পাদক ও সঞ্চালক অমিশ দেবগনও এই মুদ্রার ছবি টুইটারে শেয়ার করেছেন। ছবিটির সাথে তিনি লিখেছেন ১৮১৮ সালের ২ আনার কয়েন যেখানে রাম দরবার রয়েছে। 

এখানে আরও কিছু টুইটার পোস্ট দেওয়া হলো। 

https://twitter.com/Mohamma11423134/status/1517911089098686465

Fact check / Verification 

সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল দাবি ১৮১৮ সালে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সনাতনী মুদ্রার প্রচলন শুরু করেছিল সত্যতা জানার জন্য আমরা গুগলে কিছু কীওয়ার্ড দ্বারা অনুসন্ধান শুরু করি। এই মুদ্রার ছবিটি ভাইরাল হওয়ার অন্যতম কারণ হলো তৎকালীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হিন্দু সনাতন ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা। যেহেতু কয়েনে হিন্দু দেবতা রাম, যখন, সীতা ও হনুমানের ছবি রয়েছে, হিন্দু ও সনাতন ধর্মের ভাবাবেগকে আরো যেন জাগ্রত করে তুলেছে এই মুদ্রার ছবিটি। 

গুগলে ‘ ‘১৮১৮ ২ আনা মুদ্রা ‘ লিখে খোঁজার পর আমরা snap deal, flipkart এর কিছু লিংক পাই যেখানে এই ধরণের আরো অনেক ঐতিহাসিক মুদ্রা পাই। 

বিশ্বের সব থেকে দামি মুদ্রা ‘Raam’ হল্যান্ডে প্রচলিত?

এর সাথে আমরা Shopclues এর ওয়েবসাইট থেকে এই মুদ্রার ছবিটি পাই যেখানে একে পুজোর মুদ্রা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ছবিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে এটি ১৮১৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রচলন করেছিল যাকে মূলত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে মন্দিরে দেওয়া হতো। অর্থাৎ যাকে আমরা চলতি কথায় লাকি কয়েন বলে থাকি। এর বর্তমান বাজার মূল্য ১২৯৯ টাকা। 

১৮১৮ সালে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সনাতনী মুদ্রা image 4

Courtesy: Shopclues
১৮১৮ সালে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সনাতনী মুদ্রা image 5
Courtesy: Shopclues

 ১৮১৮ সালে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সনাতনী মুদ্রার প্রচলন করেছিল দাবিটি মিথ্যে 

এছাড়া আমরা ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ওয়েবসাইটে গিয়ে কোম্পানির আমলে প্রচলিত মুদ্রা কেমন ছিল জানার চেষ্টা করি। এখানে সিন্ধু সভ্যতা থেকে শুরু করে মুঘল সাম্রাজ্য, কোম্পানির যুগের মুদ্রার ছবি রয়েছে। ১৮১৮ সালের আগে ও পরে রাম সীতার ছবি দেওয়া কোনো সরকারি মুদ্রা চালু ছিল কিনা জানার জন্য আমরা RBI এর মুদ্রা বিভাগে খোঁজ করি। এখানে সিন্ধু সভ্যতার থেকে স্বাধীন ভারতের মুদ্রার বিবরণ ও ছবি দেওয়া রয়েছে। এখানে ভারতের বিভিন্ন স্বাধীন রাজ্যের এবং বৃটিশ শাসন শুরু হওয়ার পূর্বের ও পরের মুদ্রার ছবিও রয়েছে। কিন্তু কোথাও আমরা এই রাম সীতার মুদ্রা দেখিনি।

১৮১৮ সালে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সনাতনী মুদ্রা image 7
Courtesy: RBI
১৮১৮ সালে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সনাতনী মুদ্রা image 7
Courtesy: RBI

ব্রিটিশ শাসন পুরোপুরি ভাবে শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত ভারতের পৃথক পৃথক শাসন সাম্রাজ্য যেমন হায়দ্রাবাদে, অযোধ্যা , উদয়পুরে ভিন্ন ধরণের মুদ্রার প্রচলন ছিল। 

এছাড়াও আমরা সুমিত ভোলার সাথে যোগাযোগ করি যিনি coinquest নামের একটি ওয়েবসাইটের ভারতে প্রচলিত পুজো পারবেন উপলক্ষ্যে ব্যবহৃত মুদ্রার সম্পর্কে লিখেছেন। উক্ত ছবিটিকে আমরা ওনাকে পাঠানোর পর তিনি জানিয়েছেন এটি কোনো সরকারি মুদ্রা নয়, যা দিয়ে লেনদেন করা যেতে পারে। এটি সম্পূর্নই পুজো উপলক্ষ্যে, মন্দিরের থেকে প্রাপ্ত মুদ্রা।

Conclusion 

আমাদের পর্যবেক্ষণে প্রমাণিত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল ১৮১৮ সালে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সনাতনী মুদ্রার প্রচলন করেছিল দাবিটি মিথ্যে। এই কয়েনটিকে ২ আনার মুদ্রা ও বলা হয়েছে, যদিও এটি পুজার জন্য প্রচলিত ছিল।

Result: Fabricated content / False

Our sources

RBI
Shopclues


সন্দেহজনক কোনো খবর ও তথ্য সম্পর্কে আপনার প্রতিক্রিয়া জানাতে অথবা সত্যতা জানতে আমাদের লিখে পাঠান checkthis@newschecker.in অথবা whatsapp করুন- 9999499044 এই নম্বরে। এছাড়াও আমাদের সাথে Contact Us -র মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন ও ফর্ম ভরতে পারেন।

Authors

With a penchant for reading, writing and asking questions, Paromita joined the fight to combat and spread awareness about fake news. Fact-checking is about research and asking questions, and that is what she loves to do.

Paromita Das
Paromita Das
With a penchant for reading, writing and asking questions, Paromita joined the fight to combat and spread awareness about fake news. Fact-checking is about research and asking questions, and that is what she loves to do.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular